ওয়ালটনে সেলস এক্সিকিউটিভ হওয়ার সুযোগ, আবেদন শেষ ১৮ জুন

সিনিয়র অফিসার নিয়োগ দেবে ট্রান্সকম ইলেকট্রনিকস

ফোনটা হাতে নিয়ে ঘাটছেন। চাকরির সার্কুলার দেখছেন, কিন্তু কোথাও মন বসছে না। হয় অভিজ্ঞতা লাগে, নয়তো বয়সসীমা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আপনার মতো হাজারো তরুণ-তরুণী ঠিক এই মুহূর্তে একই দ্বিধায় ভুগছেন। ঠিক এমন সময়েই দরজা খুলে দিল ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। দেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ডটি তাদের সেলস (পিসিবি ও পিসিবিএ) বিভাগে ‘এক্সিকিউটিভ’ পদে পাঁচজন কর্মী নিয়োগ দেবে। আবেদন শুরু হয়েছে ১৯ মে থেকে—চলবে আগামী ১৮ জুন পর্যন্ত। বিষয়টা কিন্তু শুধু একটা চাকরির বিজ্ঞপ্তি নয়। এটি একটি ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা। যেখানে ফ্রেশাররাও আবেদন করতে পারেন, আবার অভিজ্ঞরাও অগ্রাধিকার পাবেন। বয়সের কোনো বাঁধা নেই। নারী-পুরুষ উভয়েই আবেদনের সুযোগ পাবেন।

কেন এই নিয়োগটি আলাদা?

সাধারণত এক্ষেত্রে যা হয় কোম্পানি শুধু অভিজ্ঞ প্রার্থী খোঁজে। কিন্তু ওয়ালটন এখানে ভিন্ন পথে হেঁটেছে। ফ্রেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার বা স্নাতক ডিগ্রিধারীরাও আবেদন করতে পারবেন। তবে শর্ত আছে: ইলেকট্রনিক্স/ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা অথবা ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, পিসিবি (প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড) ও পিসিবিএ (প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড অ্যাসেম্বলি) খাতে কাজ করতে বিশেষ দক্ষতা লাগে। ওয়ালটন চাচ্ছে সেই দক্ষতা সম্পন্ন মানুষ, যারা ইলেকট্রনিকস পণ্য বিক্রিতে পারদর্শী।

পদের বিবরণ ও দায়িত্ব

কাজের জায়গা হবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে। অফিসে বসেই কাজ করতে হবে। তবে মনে রাখবেন—এটা শুধু অফিসে বসে কাজ করার চাকরি নয়। দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে:

  • পিসিবি ও পিসিবিএ পণ্যের বিক্রি বাড়ানোর জন্য টিমের সদস্য হিসেবে কাজ করা
  • নতুন ও পুরনো গ্রাহকদের সাথে সম্পর্ক তৈরি ও টিকিয়ে রাখা
  • নতুন ব্যবসার সুযোগ চিহ্নিত করা ও সেটা কাজে লাগানো
  • বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা ও রাজস্ব বৃদ্ধি নিশ্চিত করা
  • পিসিবি ও পিসিবিএ বাজারের চাহিদা বিশ্লেষণ করে বিক্রির পূর্বাভাস তৈরি করা
  • নিয়মিত বাজার পরিদর্শন ও প্রতিযোগীদের বিশ্লেষণ করা
  • পণ্য ও ব্যবসা উন্নয়নের জন্য গ্রাহকের মতামত সংগ্রহ করা

কাজের চাপ থাকবে, কিন্তু সেই চাপ সামলানোর দক্ষতা থাকলে এগিয়ে থাকবেন। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ‘প্রেসার আন্ডার ওয়ার্ক’ দক্ষতা এখানে বিশেষভাবে প্রয়োজন।

বেতন ও সুবিধা: শুধু চাকরি নয়, ক্যারিয়ার

বেতন নিয়ে আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারণ করা হবে। কিন্তু শুধু বেতনই বড় কথা নয়। ওয়ালটন যে সুবিধাগুলো দিচ্ছে, সেটাই এখানে আকর্ষণীয়:

  • প্রভিডেন্ট ফান্ড
  • লভ্যাংশ বোনাস
  • দুপুরের খাবারের সুবিধা (আংশিক ভর্তুকি)
  • বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট
  • ভ্রমণ ভাতা ও দৈনিক ভাতা
  • বিমা সুবিধা
  • উৎসব বোনাস বছরে ২টি
  • মোবাইল বিল
  • প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা

বছরে একবার বেতন পর্যালোচনা করা হবে। প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে।

আবেদনের যোগ্যতা: কারা দরকার?

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়েই আবেদন করতে পারবেন। তবে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে—শুধু পুরুষরাই আবেদন করতে পারবেন। বয়স নির্ধারিত নেই।

শিক্ষাগত যোগ্যতা:

  • ইলেকট্রনিক্স/ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা অথবা
  • ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি

অভিজ্ঞতা:

  • ন্যূনতম ১ বছর চাকরির অভিজ্ঞতা থাকা প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন
  • ফ্রেশাররাও আবেদন করতে পারবেন
  • নন-ইঞ্জিনিয়ারিং প্রার্থীদের জন্য পিসিবি/পিসিবিএ বা ইলেকট্রনিকস পণ্য বিক্রিতে ২ বছর বা তার বেশি অভিজ্ঞতা প্রয়োজন

অগ্রাধিকার পাবেন যারা:

  • ফ্রেশ বি.এসসি. বা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার
  • পিসিবি/পিসিবিএ সেলস বা ইলেকট্রনিকস পণ্য বিক্রিতে ন্যূনতম ১ বছর অভিজ্ঞতা আছে
  • ইলেকট্রনিক ইকুইপমেন্ট/হোম অ্যাপ্লায়েন্সেস, মোবাইল ইন্ডাস্ট্রি, কম্পিউটার হার্ডওয়্যার/নেটওয়ার্ক কোম্পানি, মোবাইল অ্যাক্সেসরিজ, আইটি এনাবলড সার্ভিস খাতে কাজ করেছেন

কী কী দক্ষতা দরকার?

শুধু ডিগ্রি থাকলেই হবে না। এখানে কিছু বিশেষ দক্ষতা প্রয়োজন:

  • যোগাযোগ ও আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা
  • নেতৃত্বের গুণাবলি
  • মাইক্রোসফট অফিসে দক্ষতা
  • দরকষাকষির ক্ষমতা
  • সেলস ও মার্কেটিং দক্ষতা
  • চাপের মধ্যে কাজ করার সক্ষমতা

আবেদন প্রক্রিয়া: কীভাবে করবেন?

আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ তারিখ ১৮ জুন ২০২৬। এর বেশি সময় নেই—হাতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ।

আবেদন লিংক: সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে (bdjobs) ক্লিক করে আবেদন করতে হবে। কাজের ক্ষেত্র, আবেদন পদ্ধতি ও অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সরাসরি বিজ্ঞপ্তিটি দেখে নিন।

বাস্তব পরামর্শ: আবেদনের আগে যা জানা জরুরি

বেশিরভাগ প্রার্থী শুধু সার্কুলার পড়ে আবেদন করেন। কিন্তু এখানে সফল হতে গেলে কয়েকটি বিষয়ে নজর দিতে হবে। প্রথমত, আপনার সিভি আপডেটেড রাখুন। দ্বিতীয়ত, পিসিবি ও পিসিবিএ সম্পর্কে বেসিক ধারণা রাখুন। তৃতীয়ত, সেলসে আপনার আগ্রহের কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন।

ওয়ালটনের মতো বড় প্রতিষ্ঠানে কাজ করার মানে হলো—আপনি দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্র্যান্ডের সাথে যুক্ত হচ্ছেন। এখানে ক্যারিয়ার গ্রোথের সুযোগ অনেক। তবে শুরুতেই বড় বড় আশা না করাই ভালো। বাস্তবতা হলো—প্রথম কয়েক মাস শেখার সময়। প্রতিষ্ঠানের পণ্য, বাজার ও গ্রাহকদের বুঝতে সময় লাগবে।

যারা ফ্রেশ, তাদের জন্য এটি একটি দুর্দান্ত সুযোগ। কারণ সাধারণত বড় কোম্পানিগুলো ফ্রেশারদের এত সহজে সুযোগ দেয় না। ওয়ালটন ফ্রেশারদের উৎসাহিত করছে—যা বিরল।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন ১: আমি কি ফ্রেশ হিসেবে আবেদন করতে পারব?

হ্যাঁ, ফ্রেশাররাও আবেদন করতে পারবেন। তবে অভিজ্ঞ প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন। আপনার সিভিতে যদি ইন্টার্নশিপ বা প্রজেক্টের অভিজ্ঞতা থাকে, সেটি উল্লেখ করবেন।

প্রশ্ন ২: নন-ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে কি আবেদন করা যাবে?

হ্যাঁ, তবে সেক্ষেত্রে পিসিবি/পিসিবিএ বা ইলেকট্রনিকস পণ্য বিক্রিতে ন্যূনতম ২ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। না থাকলে আবেদন না করাই ভালো।

প্রশ্ন ৩: বেতন কত হবে?

বেতন আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারণ করা হবে। কোম্পানি সাধারণত শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করে। বাজারে ওয়ালটনের বেতন প্রতিযোগিতামূলক বলে পরিচিত।

প্রশ্ন ৪: চাকরির জায়গা কোথায়?

কর্মস্থল হবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে। অফিসে বসেই কাজ করতে হবে। তবে মাঝে মাঝে বাজার পরিদর্শনের প্রয়োজন হতে পারে।

প্রশ্ন ৫: নারী প্রার্থীরা কি আবেদন করতে পারবেন?

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে—শুধু পুরুষরাই আবেদন করতে পারবেন। তবে কোম্পানি নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য সমান সুযোগের কথা বলেছে। বিজ্ঞপ্তি ভালোভাবে পড়ে নিন।

প্রশ্ন ৬: পিসিবি ও পিসিবিএ কী, এই খাতে ক্যারিয়ার কেমন?

পিসিবি হলো প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড, যা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মেরুদণ্ড। পিসিবিএ হলো সেই বোর্ডে যন্ত্রাংশ বসানোর প্রক্রিয়া। বাংলাদেশে এই খাতে চাহিদা বাড়ছে। ওয়ালটনের মতো কোম্পানিতে কাজ করলে এই সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার ভালো সুযোগ আছে।

শেষ কথা: এই সুযোগটি কি আপনার জন্য?

আপনি যদি ইলেকট্রনিক্স বা ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি নিয়ে থাকেন, আর সেলসে ক্যারিয়ার গড়তে চান—তবে এই সুযোগটি হাতছাড়া করবেন না। কিন্তু বাস্তবতা মাথায় রাখুন: এখানে চাকরি পাওয়া সহজ নয়। প্রতিযোগিতা থাকবে। তবে প্রস্তুতি নিলে, সঠিকভাবে আবেদন করলে সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়বে।আবেদনের শেষ তারিখ ১৮ জুন ২০২৬। সময় কম। আজই আপনার সিভি তৈরি করে ফেলুন। প্রয়োজনে পিসিবি ও পিসিবিএ নিয়ে একটু গবেষণা করে নিন। ইন্টারভিউতে এগুলো কাজে লাগবে। মনে রাখবেন—প্রতিটি বড় ক্যারিয়ার শুরু হয় একটি ছোট সুযোগ দিয়ে। এই সুযোগটি আপনার হতে পারে। শুধু একটু সাহস আর প্রস্তুতি দরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *